বিশেষ সংবাদদাতা
প্রিন্ট
রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৩ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর আগমণের প্রাক্কালে (৩ বছর আগে) পরস্পর-বিরোধী কর্মসূচিতে মুখোমুখী বিএনপি-আওয়ামী লীগ। ফাইল ফটো।
বিশেষ সংবাদদাতা
তারেক রহমানও কী শেখ হাসিনার মত আমলাবেষ্টিত? দীর্ঘ দেড় যুগেরও অধিক সময় যারা নিউইয়র্কে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে মূলধারায় দেন-দরবা্র চালিয়েছেন, তাদের কী মূল্যায়ন হবে না? এমন প্রশ্ন বিএনপির ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা-কর্মীগণের। অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যে, কন্সাল জেনারেল অথবা রাষ্ট্রদূতরাই যদি প্রধানমন্ত্রীর সম্বর্ধনা সমাবেশের সঞ্চালনা/সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে জেএফকে এয়ারপোর্টে আওয়ামী লীগের তুমুল বিক্ষোভের বিরুদ্ধে দলীয় কর্মীরা থাকবে কেন? জাতিসংঘে তারেক রহমানের ভাষণের সময় বাইরে শান্তি-সমাবেশও তো কূটনীতিকদেরই করা উচিত। এমন প্রশ্নবাণে জর্জরিত নেতা-কর্মীরা মনে করছেন, ‘আওয়ামী লীগের আক্রমণে রক্ত ঝরে আমাদের, পুলিশের হয়রানির ভিকটিমও হতে হয় আমাদেরই, তাহলে প্রিয়নেতার আগমণের সময় আমরা অবজ্ঞা-অবহেলার শিকার হচ্ছি কেন?
জানা গেছে, সপ্তাহখানেক আগে নিউইয়র্কস্থ কন্সাল জেনারেল মোজাম্মেল হক বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকজন নেতার সাথে বৈঠক করেন। তারেক রহমান নিউইয়র্কে অবস্থানকালে বিএনপির কোন নেতাকে সাক্ষাৎ দেবেন না, নাগরিক সম্বর্ধনা যেটি হবে সেখানেও দলীয় কাউকে সভাপতির দায়িত্ব কিংবা পরিচালনায় রাখা হবে না। সম্বর্ধনা সমাবেশে ৭০০ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। এর মধ্যে নিউইয়র্কস্থ বিএনপির ৩০০ জন, বাইরের স্টেটের ৩০০ জন এবং বাকি ১০০ জন থাকবেন সুশীল সমাজ/এনসিপি, জামায়াতের। এর বাইরে পছন্দের কিছু গণমাধ্যম কর্মীকেও দাওয়াত দেয়া হবে। আর এই নির্দেশনা এসেছে উচ্চ পর্যায় থেকে। এমন তথ্য জানিয়ে নিউইয়র্কে বসবাসরত বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দকে আরো বলা হয়েছে যে, পান থেকে চুন খসে পড়ারও সুযোগ নেই। সরকারের নীতি-নির্দ্ধারকদের কথার বাইরে যাবার ন্যূনতম সুযো্গ নেই।
এমন নির্দেশনার কথা জানাজানি হবার পর যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তারাই শুধু নন, দুই বছর আগে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত স্টেট ও সিটি কমিটির কর্মকর্তারাও ক্ষুব্ধ-প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন এ সংবাদদাতার কাছে। তারা উল্লেখ করেছেন, ‘দীর্ঘ্ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যদিয়ে অর্জিত ফসল হিসেবে প্রিয়নেতা তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান এবং আমাদের দলীয় প্রধান হওয়া সত্বেও আমরা কেন তার সান্নিধ্য পাবো না। এটা কেমন আচরণ?’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকাস্থ নীতি-নির্দ্ধারকেরা জাতিসংঘের এই সফরকে একেবারেই বিতর্কের উর্ধে রাখার অভিপ্রায়ে দলীয় কোন নেতা-কর্মীর সাথে প্রধানমন্ত্রীর দহরম-মহরম না করাকে শ্রেয় ভাবছেন। অর্থাৎ তারেক রহমানের সবকিছুই আমলাবেষ্টিত থাকবে। এমন মনোভাবের তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিএনপিসহ সুধীসমাজের প্রতিনিধিরা। একই অজুহাতে নিউইয়র্কে গণমাধ্যম কর্মীগণের সাথেও তারেক রহমানের প্রেস কনফারেন্সের ব্যাপারটি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অপর একটি সূত্রে এ সংবাদদাতা জানতে পেরেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নাগরিক সম্বর্ধনার জন্যে আড়াই লাখ ডলারের বাজেট দিয়েছেন আমলারা। তারেক রহমান সম্মতি দেননি এ বাজেটের ব্যাপারে। সেস্থলে বিকল্প হিসেবে ঢাকায় অবস্থানরত বিএনপি নেতা গিয়াস আহমেদ তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজনদের জানিয়েছেন যে, তাকে তথা যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিকে যদি দায়িত্ব দেয়া হয় তাহলে রাষ্ট্রকে এত মোটা অংকের দায় নিতে হবে না। দলীয় নেতা-কর্মীরা অর্থের সংস্থান করতে পারবেন। এ ব্যাপারে গিয়াস আহমেদের বক্তব্য/মতামত জানতে ঢাকায় ফোন করা হয়েছিল। তিনি রিসিভ করেননি। নিউইয়র্কে বসবাসরত যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক নেতা এম এ বাতিন ঢাকায় গিয়ে পার্টির হাই কমান্ডের সাথে দেন-দরবার চালাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর নাগরিক সম্বর্ধনার সমাবেশ দলীয় নেতৃবৃন্দের সভাপতিত্বে হবার জন্যে। তাহলেই অতীতের ন্যায় সামনের দিনগুলোতেও সাংগঠনিক কর্ম্কান্ডে আরো গতি আসবে।
বিএনপি ঘরানার একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তি নিউইয়র্কে এ সংবাদদাতাকে জানান, ৭০০ আসনের মিলনায়তনে সম্বর্ধনা সমাবেশ করতে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার ডলার লাগতে পারে। আড়াই লাখ ডলারের প্রয়োজন হবে না। কারণ, আগতদের আপ্যায়নের কোন সুযোগ নেই। শুধুমাত্র মিলনায়তনের ভাড়া, ডিজিটাল ব্যানার, সাউন্ড সিস্টেম এবং বড়জোর লাইটিং আর অতিরিক্ত সিকিউরিটির জন্যে অর্থ লাগবে।
২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অবতরণের কথা তারেক রহমানের। এজন্যে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জেএফকে এয়ারপোর্টে শান্তিপূর্ণভাবে তুমুল বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলছে। সারা আমেরিকার নেতা-কর্মীরা নিউইয়র্কে আসবেন বলে জানা গেছে। ‘যেখানে তারেক-সেখানেই প্রতিরোধ’ কর্মসূচি ঠেকানোর দায়িত্বও কী আমলারা নেবেন-এ জিজ্ঞাসা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, জাসাসের নেতৃবৃন্দের। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, শেখ হাসিনা আমলের শেষের দিকে নাগরিক সম্বর্ধনার নামে যে তামাশা হয়েছে সেটির আয়োজক হিসেবে ব্যানারে ‘যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ’ লেখা থাকলেও মঞ্চে বসতেন রাষ্ট্রদূত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বক্তব্যের সুযোগ দূরের কথা আওয়ামী লীগের কাউকে পরিচয় করিয়ে দেয়াও হয়নি। এর কারণ হিসেবে সংগঠনের সভাপতির বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-অনাচারে লিপ্ত থাকার গুরুতর অভিযোগ পেশ করা হয়েছিল। যদিও এখোন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সেই সভাপতিকে সরানো হয়নি। বিকল্প হিসেবে পশ্চিমাঞ্চল, দক্ষিণাঞ্চল এবং পূর্বাঞ্চলীয় কমিটি দেয়া হচ্ছে।
এদিকে, বিএনপির যুক্তরাষ্ট্র শাখার কোন কমিটি নেই ২০১২ সাল থেকে। এ অবস্থায় কয়েক খন্ডে বিভক্ত হয়ে কার্য্ক্রম চালানো হচ্ছে নিউইয়র্কে। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিকল্প হিসেবে নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, পেনসিলভেনিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি, ভার্জিনিয়া, ম্যারিল্যান্ড, জর্জিয়া, ফ্লোরিডা, মিশিগান, টেক্সাস, ইলিনয়, ক্যালিফোর্নিয়া, কানেকটিকাট, ম্যাসেচুসেট্ স্টেট শাখার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তাদেরকেও পাত্তা দেয়া হচ্ছে না ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নাগরিক সম্বর্ধনা সমাবেশ আয়োজনে। এ ব্যাপারে নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জসিমউদ্দিন ভিপি ৬ সেপ্টেম্বর এ সংবাদদাতাকে জানান, বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন সবকিছুর দেখভাল করছেন। তার নির্দেশ অনুযায়ী আমরা মাঠে থাকবো।
Posted ১২:৪৩ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর